খুলনার দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা

খুলনার দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা

নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে খুলনার দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন-খুলনার সভাপতি মো. আনিসুজ্জমনা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিপটার্নিং অফিসারের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের জেরে দৈনিক মানবজমিনের খুলনা প্রতিনিধি, খুলনা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ও বিএফইউজে’র কাউন্সিলর রাশেদুল ইসলাম এবং বাংলা ট্রিবিউন, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক ‘প্রবাহ’র নগর সম্পাদক হেদায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। মামলার পর পরই হেদায়েত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু গ্রেফতার করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, পুলিশ তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। আবার রাশেদুল ইসলামকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। এ ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হামলা এবং হুমকি বলে আমরা মনে করি।
দুই সাংবাদিক ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, রিটার্নিং অফিসার সবার উপস্থিতিতে মাইকে যে ফলাফল ঘোষণা করেছেন তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ওই ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন টেলিভিশনের প্রচারিত হয় ও বেশ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রমান তাদের হাতে রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে কালো আইনে মামলা করে দুই সিনিয়র সাংবাদিকের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সাংবাদিক সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশের সময় সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আশ^স্ত করে বলা হয়েছিল, এ আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু খুলনার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার জন্যই এই কালো আইন। আমরা সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম ও হেদায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করে হেদায়েত হোসেনের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে রাশেদুল ইসলামকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান বন্ধ করতে হবে।