Constitution

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)
(রেজিঃ নং বি-১৯৮৭)
স্থাপিত ঃ ১৯৭৩ ইং

গঠনতন্ত্র

(বিভিন্ন সংশোধনী ও সংযোজনী সহকারে পরিমার্জিত ও পুনর্বিন্যস্ত)

অনুচ্ছেদ-১ : সংগঠন
সংগঠন বাংলাদেশের সকল পেশাদার সাংবাদিকদের রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নসমূহের দ্বারা গঠিত একটি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন। ইহা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, সংক্ষেপে বিএফইউজে নামে অভিহিত হইবে এবং অতঃপর গঠনতন্ত্রে শুধুমাত্র ফেডারেশন বা বিএফইউজে বলিয়া উল্লিখিত হইবে। ইংরেজীতে ইহার নামকরণ হইবে BANGLADESH FEDERAL UNION OF JOURNALISTS, সংক্ষেপে BFUJ.
অনুচ্ছেদ-২ : কার্যালয়
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা হইতেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ১৮নং তোপখানা রোডে অবস্থিত জাতীয় প্রেস ক্লাব ভবন। তবে, সাংগঠনিক প্রয়োজনে বা জরুরী পরিস্থিতিে ত নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে যে কোন এলাকায় ফেডারেশনের কার্যকরী অফিস স্থাপন করা যাইবে এবং ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রারকে এইরূপ অফিস স্থাপনের ১৫ দিনের মধ্যে অবহিত করা হইবে।
অনুচ্ছেদ-৩ : লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ক) সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ করা, তাহাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করা।
খ) বাংলাদেশের বাংলা, ইংরেজী ও অন্য যে কোন ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় কর্মরত সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত কল্যাণ সাধন এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন।
গ) বেতন ও চাকুরীর শর্তাবলী এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সদস্যদের বৈধ অধিকার সংরক্ষণ।
ঘ) ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন কর্তৃক দাবী আদায়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের সাহায্য প্রদান এবং ফেডারেশনের স্বার্থে কাজ করিতে গিয়ে কোন নেতা বা সদস্য জেল, জুলুম, মামলা অথবা মালিক কর্তৃক হযরানির দরুণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হইলে তাহাকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা।
ঙ) বাংলাদেশের ভিতরে বা বাহিরে মেহনতী ও শ্রমজীবী মানুষের সাহায্যে আগাইয়া যাওয়া ও উন্নততর শ্রমিক আন্দোলনে অগ্রবর্তী ভূমিকা গ্রহণ করা এবং তহবিল গঠন করা।
চ) ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নসমূহের সদস্যদেরকে দেশ, জাতি, সমাজ ও রাষ্ট্র তথা সর্বস্তরের জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করিয়া তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হওয়া।
ছ) শ্রমিক বা শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গঠিত যে কোন দেশী বা বিদেশী বৃহৎ সংস্থার সঙ্গে মিলিত হইয়া ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, জুলুম ও অন্যান্য প্রতিরোধ এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক আদায়ের জন্য উদ্যোগী হওয়া।
জ) মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বা বিরোধীয় বিষয় উত্থাপিত হইলে দ্বি-পক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করিয়া উভয়ের মধ্যে সম্পন্ন উন্নয়ন করা এবং আপোস-মীমাংসায় ব্যর্থ হইলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়া শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী-দাওয়া আদায় করা।
ঝ) ফেডারেশন সাধারণ শ্রমিকদের স্বার্থে এবং দাবী আদায়ের জন্য আইনগতভাবে সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে অন্তর্ভুক্ত সকল ইউনিয়নকে নিজ নিজ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ধর্মঘট ঘোষণার নির্দেশ প্রদান করিবে এবং ধর্মঘট পরিচালনায় তাহাদের সাহায্য ও সহযোগিতা দান করিবে।
ঞ) কোন অনুমোদিত ইউনিয়ন বা ইহার কোন সদস্য শ্রমিক-মালিক সম্পর্কিত মামলায় জড়িত হইয়া পড়িলে ফেডারেশন শ্রমিক সমাজের বৃহত্তম স্বার্থের খাতিরে উক্ত ইউনিয়ন বা শ্রমিকের পক্ষে মামলার বাদী অথবা বিবাদী রূপে দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে।
ট) ফেডারেশন চাঁদা, দান, অনুদান বা অন্য কোন গঠনতানিত্রক উপায়ে তহবিল গঠন করিবে এবং গঠনতন্ত্রের বর্ণিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং ইউনিয়নের সম্মুখে বিদ্যমান সমস্য সমাধানে উক্ত তহবিলের অথৃ খরচ করিবে।
ঠ) অনুকূল অবস্থায় ফেডারেশনের মুখপত্র প্রকাশ ও সদস্যদের জন্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গ্রহণ।
ড) প্রয়োজনবোধে সংবাদপত্র শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন এবং নির্দিষ্ট কর্মসূচীর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণ।
ঢ) এই গঠনতন্ত্রে বর্ণিত হয় নাই, অথচ সদস্য-ইউনিয়ন বা অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যদের স্বার্থে বা সাংবাদিকতা পেশার সহিত সম্পর্কিত অন্যদের স্বার্থে প্রয়োজন, এইরূপ কর্মসূচী বা কার্যব্যবস্থা গ্রহণ।
অনুচ্ছেদ-৪: সদস্য পদ
ক) বাংলাদেশের কোন জেলা, থানা, শহর ও বন্দরে অবস্থিত এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট যথাযথ রেজিস্ট্রিকরণ কর্তৃপক্ষের দ্বারা রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন সাংবাদিক ইউনিয়ন এই ফেডারেশনের সদস্য হইতে পারিবে।
খ) ফেডারেশনের সদস্য হইতে ইচ্ছুক ইউনিয়নসমূহকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে। এই ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত কোন ইউনিয়ন অন্য কোন ফেডারেশনের সদস্য হইতে পারিবে না।
গ) সদস্য পদপার্থী ইউনিয়নকে আবেদনকালে নির্ধারিত অনুমোদন ফি ২৫০/-০০ টাকা জমা দিতে হইবে, যাহা আবেদন গৃহীত না হইলে ফেরতযোগ্য। সদস্যভুক্ত ইউনিয়নকে বার্ষিক আদায়কৃত সদস্য -চাঁদার ২৫% ফেডারেশনকে প্রদান করিতে হইবে।
ঘ) কোন রূপ কারণ না দর্শাইয়া যে কোন আবেদনকারী ইউনিয়নকে সদস্যপদ প্রদান বা প্রদান না করার চুড়ান্ত ক্ষমতা নির্বাহী পরিষদের থাকিবে।
অনুচ্ছেদ-৫ : নির্বাহী পরিষদ গঠন
ক) ফেডারেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্বাহী পরিষদ (Executive Committee) থাকিবে। ফেডারেশনের পক্ষে ইহার আদর্শ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ বাস্তবায়নের জন্য যাবতীয় কাজ নির্বাহী পরিষদ সম্পন্ন করিবে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নির্বাহী পরিষদ ফেডারেশনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরিষদ বলিয়া গণ্য হইবে। অনুচ্ছেদ-১৫ মতে কাউন্সিল সভায় (প্রতিনিধি পরিষদ) কাউন্সিলারদের গোপন ভোটের মাধ্যমে দুই বৎসর মেয়াদের জন্য নির্বাহী পরিষদ গঠিত হইবে।
খ) সর্বমোট ১৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে নির্বাহী পরিষদ গঠিত হইবে। ইহা ছাড়া অনুমোদিত ইউনিয়নসমূহের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদককে নির্বাহী পরিষদের সদস্য বলিয়া গণ্য করা যাইবে। নির্বাহী পরিষদে যাহারা নির্বাচিত হইবেন তাহারা হইলেন :
১। সভাপতি (President) ১ জন
২। সহ-সভাপতি (Vice-President ) ৩ জন
৩। মহাসচিব (Secretary-General) ১ জন
৪। সহকারী মহাসচিব (Assistant Secretary-General ) ৩ জন
৫। কোষাধ্যক্ষ (Treasurer) ১ জন
৬। সাংগঠনিক সম্পাদক (Organising Secretary) ১জন
৭। দফতর সম্পাদক (Office Secretary) ১ জন
৮। প্রচার সম্পাদক (Publicity Secretary) ১ জন
৯। সদস্য (Executive Member) ৭ জন
মোট = ১৯ জন
অনুচ্ছেদ-৬ : নির্বাহী পরিষদের ক্ষমতা
ক) ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদের উপর ফেডারেশন পরিচালনার সর্ব প্রকার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে। ফেডারেশনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং ফেডারেশনের উন্নতি ও ইহার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য যে কোন কর্মপন্থা গ্রহণ করা এবং তাহা সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করিবার ক্ষমতা নির্বাহী পরিষদের থাকিবে।
খ) নির্বাহী পরিষদ কর্মকর্তা ও সদস্যদের শূন্য পদে কাউন্সিলার হইতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ করিতে পারিবে।
গ) নির্বাহী পরিষদ পূর্ববর্তী বৎসরে করণীয় যাবতীয় কাজের খসড়া বিবরণী বা কর্মসূচী তৈয়ার করিয়া তাহা অনুমোদনের জন্য কাউন্সিলে পেশ করিবে।
ঘ) নির্বাহী পরিষদ পয়োজনবোধে বিশেষ কোন কাজ সম্পাদন করিবার জন্য উপ-পরিষদ গঠন করিয়া উহার উপর প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ন্যস্ত করিতে পারিবে।
ঙ) নির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়া পরিষদভুক্ত সদস্যদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করিয়া দিতে পারিবে।
চ) ফেডারেশনের যাবতীয় কার্য সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পাদন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
ছ) ফেডারেশনের যাবতীয় কার্য সম্পন্ন করিবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বরাদ্দ মঞ্জুর করিবে।
জ) নির্বাহী পরিষদ গঠনতন্ত্রের ১০নং অনুচ্ছেদের (ক) ও (খ) উপ-অনুচ্ছেদ মতে নির্দিষ্ট হারে ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন হইতে যাবতীয় চাঁদা, অনুমোদন ফি ও বিশেষ চাঁদা আদায় করিবে।
ঝ) গঠনতন্ত্রের ১০নং অনুচ্ছেদের (গ), (ঘ) ও (ঙ) উপ-অনুচ্ছেদ মতে ফেডারেশনের যাবতীয় হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
ঞ) কাউন্সিল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও অনুমোদিত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও সম্পাদন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
ট) নির্বাহী পরিষদ ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত যে কোন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সংকট বা বিরোধ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং কোন ইউনিয়নের অচলাবস্থা বা স্থবিরতা দূর করিয়া উহাকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে পারিবে।
ঠ) কোন অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন কিংবা কোন সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য নির্বাহী পরিষদকে তাহাদের যে কোন বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাইলে পরিষদ উক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করিয়া তদনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্য-ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে পারিবে।
ড) গঠনতন্ত্রের কোন ধারা বা উপধারা কিংবা কোন বিষয়ে মতামত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্বাহী পরিষদের ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
ঢ) গঠনতন্ত্রের কোন ধারায় বর্ণিত হয় নাই, অথচ পদক্ষেপগ্রহণ প্রয়োজন, এমন যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়া উহা সম্পাদন করার যথাযথ কার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
অনুচ্ছেদ-৭: কাউন্সিল পরিষদ গঠন
ক) ফেডারেশনের যাবতীয় কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য এবং যাবতীয় কার্যসূচী তৈরীর জন্য ফেডারেশনের একটি কাউন্সিল পরিষদ থাকিবে। ইহার মেয়াদ হইবে দুই বৎসর। প্রতি বৎসর কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হইবে। দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের সময় ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। ইহা ছাড়াও প্রয়োজনে বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠান করা যাইবে।
খ) ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নসমূহ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের (কাউন্সিলার) সমন্বয়ে ফেডারেশনের কাউন্সিল গঠিত হইবে। ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলি এই অনুচ্ছেদের (গ) উপ-অনুচ্ছেদ মতে প্রতিনিধি বা কাউন্সিলার নির্বাচিত করিয়া কাউন্সিলারের তালিকা ফেডারেশনের নিকট দাখিল করিবে।
গ) ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়ন পূর্ববর্তী বৎসরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদ্যমান সদস্য তালিকা অনুযায়ী প্রতি দশজন সদস্যের জন্য একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল সম্মেলনে পাঠাইবে। এই নির্ধারিত এককে শেষ ভগ্নাংশ কমপক্ষে ছয় হইলে উহার জন্যও একজন প্রতিনিধি পাঠানো যাইবে। মৃত্যু, পেশা পরিবর্তন অথবা অন্য কোন কারণে সদস্যপদ হারাইলে তাহারা বিদ্যমান তালিকা হইতে বাদ পড়িবে।
অনুচ্ছেদ-৮: কাউন্সিল পরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
ক) ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিত কার্যের পর্যালোচনা ও পরবর্তী বৎসরের জন্য কর্মপন্থা আলোচনা এবং উহা অনুমোদন।
খ) কাউন্সিলারদের দ্বারা গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন।
গ) ফেডারেশনের হিসাব পরীক্ষার জন্য অডিটর নিয়োগ ও তাহার ভাতা নির্ধারণ।
ঘ) ফেডারেশনের যাবতীয় কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে পূর্ববর্তী বৎসরের আয়-ব্যয়ের হিসাব গ্রহণ ও পরবর্তী বৎসরের বাজেট অনুমোদন।
ঙ) নির্বাহী পরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপিত হইয়া থাকিলে উহা পর্যালোচনা এবং সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
চ) ফেডরেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং শ্রম আইনের আলোকে দেশের শ্রমিক আন্দোলন ও সাংবাদিকদের সংগঠিত করার ব্যাপারে ফেডারেশনের নীতি নির্ধারণ।
অনুচ্ছেদ-৯: নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা
ক) সভাপতি : তিনি ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদ ও কাউন্সিল পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, যাবতীয় কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর দান করিবেন এবং কোন প্রস্তাবে সমতা দেখা দিলে নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিবেন। সভাপতি ফেডারেশনের সর্বত্র নিয়ম-নীতি রক্ষিত হইতেছে কি না তাহা লক্ষ্য রাখিবেন। তিনি মহাসচিবকে প্রয়োজনবোধে কাউন্সিল পরিষদ বা নির্বাহী পরিষদের সভা, বিশেষ সাধারণ সভা বা জরুরী সাধারণ সভা আহবান করার জন্য পরামর্শ দিবেন। মহাসচিব সভা ডাকিতে অপরাগ বা অসমর্থ হইলে নির্দিষ্ট নোটিশ সময়ে নোটিশ দিয়া সভাপতি সভা আহবান করিতে পারিবেন।
খ) সহ-সভাপতি : সভাপতির অনুপস্থিতিতে ক্রম অনুযায়ী একজন সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করিবেন এবং সভায় সভাপতিত্ব করিবেন। সভাপতির উপস্থিতিতে সহ-সভাপতিগণ তাহার পরামর্শ ও নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করিবেন।
গ) মহাসচিব : তিনি সভাপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে নির্বাহী পরিষদের সকল সভা ও বৈঠক ডাকিবেন এবং পরিচালনা করিবেন। তিনি দ্বি-বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলনে নির্বাহী পরিষদের কার্যকালের কর্মতৎপরতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিবরণ সম্বলিত নির্বাহী পরিষদের অনুমোদিত বিপোর্ট চূড়ান্তভাবে গ্রহণের জন্য পেশ করিবেন। তিনি ফেডারেশনের যাবতীয় কার্যনির্বাহ করিবেন। তিনি কাউন্সিল ও নির্বাহী পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবেন। তিনি প্রয়োজনবোধে কোন কর্মচারীকে নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে নিয়োগ করিতে পারিবেন এবং অনুরূপভাবে ফেডারেশনের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের জন্য বরখাস্ত ও করিতে পারিবেন। তিনি ফেডারেশনের অন্য সম্পাদকদের কাজের তদারক ও সমন্বয় সাধন করিবেন। উপস্থিত ব্যয় মিটাইবার জন্য তিনি ফেডারেশনের তহবিল হইতে অনধিক ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা সঙ্গে রাখিতে পারিবেন।
ঘ) সহকারী মহাসচিব : মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে সহকারী মহাসচিবগণ ক্রমানুসারে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করিবেন। মহাসচিবের উপস্থিতিতে সহকারী মহাসচিবগণ মহাসচিব এবং সভাপতির পরামর্শে কার্য পম্পাদন করিবেন।
ঙ) কোষাধ্যক্ষ : তিনি ফেডারেশনের যাবতীয় আর্থিক আদান-প্রদান এবং চাঁদা, দান, সম্পদ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করিবেন। তিনি ফেডারেশনের কার্যক্রমে দৈনিক খরচের হিসাব রাখিবেন, আদান ও প্রদানের ভাউচারে প্রাথমিকভাবে সহি-স্বাক্ষর করিবেন এবং মহাসচিব ও সভাপতির বরাবরে পেশ করিবেন। তাহারা উহা অনুমোদন করিলেই উহা খরচের খাতায় লিপিবদ্ধ করিবেন। তিনি দৈনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ফেডারেশনের তহবিলের অনধিক ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা সঙ্গে রাখিতে পারিবেন।
চ) সাংগঠনিক সম্পাদক : তিনি ফেডারেশনকে সাংগঠনিক দিক দিয়া শক্তিশালী করিবার উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন বা অন্যান্য ইউনিয়নের সঙ্গে কাজের সমন্বয় সাধন ও যোগাযোগ রক্ষা করিবেন। ইহা ছাড়া তিনি সংগঠনকে প্রসারিত ও শক্তিশালী করণার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং সভাপতি ও মহাসচিবের পরামর্শে কার্য সম্পাদন করিবেন।
ছ) দফতর সম্পাদক : তিনি ফেডারেশনের কার্যালয় দেখাশুনা ও পরিচালনা করিবেন। তিনি দফতরের তালা-চাবি কাছে রাখিবেন এবং মহাসচিব ও সভাপতির পরামর্শ অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করিবেন।
জ) প্রচার সম্পাদক : তিনি ফেডারেশনের যাবতীয় দৈনন্দিন কার্য তৎপরতা অর্থাৎ ফেডারেশনের সাংগঠনিক বিষয়াদি, বিবৃতি, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি প্রেস রিলিজ, হ্যান্ডবিল ও প্রচারপত্র মারফত বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সকলের কাছে তুলিয়া ধরিবেন এবং ফেডারেশনের যাবতীয় কার্যসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য ফেডারেশনের সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করিবেন। তিনি সভাপতি ও মহাসচিবের পরামর্শ অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করিতে বাধ্য থাকিবেন।
ঝ) সদস্য : নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ পরিষদের যাবতীয় কার্যে সহযোগিতা দান করিবেন। নির্বাহী পরিষদের অর্পিত কাজ ও দায়িত্ব যথাযথভাবে সমাধা ও পালন করিতে সচেষ্ট হইবেন। সদস্যগণ প্রত্যেক সভায় উপস্থিত থাকিয়া ফেডারেশনের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও কল্যাণকর কার্য নির্বাহে সচেষ্ট থাকিবে।

অনুচ্ছেদ-১০ : ফেডারেশনের তহবিল
ক) শিল্প সম্পর্কিত জরুরী বিধির অধীনে ফেডারেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নসমূহের সদস্য-চাঁদার এক চতুর্থাংশ চাঁদা হিসাবে গ্রহণ করা যাইবে। ফেডারেশনের ব্যয় নির্বাহের জন্য দান, চাঁদা, অনুদান এবং স্মরণিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ অর্থ সংগ্রহ করা যাইবে। ইহা ছাড়াও অন্য যে কোন বৈধ সূত্র হইতে অর্থ বা দ্রব্য সামগ্রী সংগ্রহ কর যাইবে।
খ) ১৯৬৯ সালের জারিকৃত শিল্প সম্পর্ক অধ্যাদেশ এবং ১৯৭৭ সালের শিল্প সম্পর্ক বিধিমালার সহিত সঙ্গতি রাখিয়া প্রয়োজনবোধে অন্যান্য তহবিল, যেমন-শিক্ষা, ইমারত, চিকিৎসা, ত্রাণ ইত্যাদি খাতের তহবিল খোলা যাইবে। তবে, বৎসরের শেষে উহা সাধারণ তহবিলের হিসাব মোতাবেক দেখাইতে হইবে।
গ) নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে ফেডারেশনের সমুদয় অর্থ বাংলাদেশের ভিতরে এক বা একাধিক ব্যাংকে জমা রাখা যাইবে। ফেডারেশনের সভাপতি, মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ফেডারেশনের একাউন্ট (হিসাব) খোলা হইবে। একাউন্টের টাকা তোলার ক্ষেত্রে চেকে কোষাধক্ষের সঙ্গে সভাপতি ও মহাসচিবের মধ্যে যে কোন একজন যুগ্ম স্বাক্ষর করিবেন। তবে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকার বেশী ব্যাংক হইতে তুলিতে হইলে নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন প্রয়োজন হইবে।
ঘ) ফেডারেশনের আয়-ব্যয় ও দৈনন্দিন খরচাদির হিসাব দেখাইবার জন্য বা সংরক্ষণের এক বা একাধিক হিসাব বহি থাকিবে। অফিস চলাকালীন সময়ে যে কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা সদস্য ইহা খুলিয়া দেখিতে পারিবেন।
ঙ) নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ও (বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর) ১৯৬৯ সালের শিল্প সম্পর্ক অধ্যাদেশ এবং তদাধীনে প্রণীত বিধি মোতাবেক নিয়োগকৃত যে কোন উপযুক্ত হিসাব পরীক্ষক বৎসরে একবার সংগঠনের আয়-ব্যয়ের তদন্ত করিয়া দেখিবেন। পরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব ও রিটার্ন রেজিষ্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স্ এর নিকট নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে দাখিল করিতে হইবে।
অনুচ্ছেদ-১১ : সদস্য বা কমিটিসমূহের তালিকা
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউনিয়নের সদস্যদের তালিকা (রেজিস্টার বহি) থাকিবে। যে কোন সদস্য অফিস চলাকালীন সময়ে উহা খুলিয়া দেশিতে পারিবেন। ইহা ছাড়াও প্রতিটি অনুমোদিত ইউনিয়নের কার্যালয়ে উক্ত ইউনিয়নের সদস্যদের তালিকা বহি থাকিবে।
অনুচ্ছেদ- ১২ : অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নের দায়িত্ব ও কর্তব্য
ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত চাঁদা মাসিক বা কিস্তিতে প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে। বিভিন্ন সভা-সমিতির গৃহীত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফেডারেশনকে শক্তিশালী করিবে। কাউন্সিল ও ফেডারেশনের নির্বাহী পরিষদের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করিবে। বাৎসরিক কার্যক্রমের রিপোর্ট, নির্বাহী কমিটির নির্বাচন ও ফলাফল এবং প্রতি বৎসরের সদস্য তালিকা ফেডারেশন দফতরে পেশ করিবে।
অনুচ্ছেদ-১৩ : ফেডারেশনের সদস্যপদ খারিজ
অন্তর্ভুক্ত কোন ইউনিয়ন বা কোন কর্মকর্তা ও সদস্য ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ বা উপ-অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যা করিয়া ফেডারেশনের লক্ষ্যবহির্ভূত ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত হইলে বা অন্যদের সংগঠিত করিলে নির্বাহী পরিষদের অনুমোদনক্রমে উক্ত অপরাধের গুরুত্ব অনুসারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যের পদ খারিজ হইয়া যাইবে। তবে, সদস্যপদ খারিজ হইলে সংশ্লিষ্টরা ফেডারেশনের কাউন্সিলের কাছে আপীল করিতে পারিবেন। সেক্ষেত্রে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে। উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা কর্মকর্তা ও সদস্যকে “কারণ দর্শাও” নোটিশ প্রদান করিতে হইবে।
অনুচ্ছেদ-১৪ : নির্বাহী পরিষদের সভা
ক) সাধারণভাবে নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠানের জন্য ১০ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিতে হইবে। এই বিজ্ঞপ্তি ব্যক্তিগতভাবে সকল সদস্যকে রেজিষ্টার্ড চিঠি, তারবার্তা অথবা বিশেষ বার্তাবহ মারফত পাঠাইতে হইবে। এই বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্যই সভার স্থান, সময় ও আলোচ্যসূচীর উল্লেখ করিতে হইবে।
খ) আশু কর্মপন্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে কমপক্ষে পুরা তিন দিনের সময় দিয়া নির্বাহী পরিষদের জরুরী সভা ডাকা যাইবে।
গ) নির্বাহী পরিষদ সাধরণভাবে যে কোন সময় বৈঠকে মিলিত হইতে পারিব। অবশ্য, বৎসরে কমপক্ষে তিনটি বৈঠক হইতে হইবে। প্রয়োজনবোধে রাজধানীর বাহিরে যেখানে ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন রহিয়াছে, এমন যে কোন শহরে নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে।
ঘ) নির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠানের জন্য পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতিতে কোরাম হইবে।
ঙ) জরুরি ও তলবী সভার কোরামের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতি অপরিহার্য।
অনুচ্ছেদ-১৫ : দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন ও নির্বাচন
ক) ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন ও নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন দুই বৎসর অন্তর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইবে।
খ) কাউন্সিলার নির্বাচন ফেডারেশনের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠানের ধার্য তারিখের কমপক্ষে চল্লিশ দিন আগে সম্পন্ন করিতে হইবে এবং ইহার তালিকা নির্বাহী পরিষদের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
গ) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন ও নির্বাচনের তারিখ, সময়সূচী ও স্থান নির্বাহী পরিষদ স্থির করিবে। এই কাউন্সিল অধিবেশন সাধারণত পরপর দুইবার একই সংবাদপত্র-কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হইবে না। তবে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এই বিধি পরিবর্তনযোগ্য। কাউন্সিল অধিবেশন ও নির্বাচনের তারিখ, স্থান ও সময়সূচী অনুমোদিত ইউনিয়নগুলিকে আশি দিন পূর্বে জানাইতে হইবে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ট্রেড ইউনিয়ন রেজিষ্ট্রিকরণ কর্তৃপক্ষকে অন্ততঃ ১৫ দিন পূর্বে অবগত করাইতে হইবে।
ঘ) নির্বাহী পরিষদ প্রথম বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করিবে এবং নির্বাচনের তারিখ ও কর্মসূচী স্থিও করিবে। এই কমিটির নাম হইবে নির্বাচন কমিটি। কমিটিতে পাঁচজন সদস্য থাকিবে। তাহারা কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাি করিবেন না। এই কমিটির একজন চেয়ারম্যান ও অন্যরা সদস্য থাকিবেন। মনোনয়নপত্র গ্রহণ, মনোনয়নপত্র বাছাই, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ইত্যাদি ব্যাপারে এই কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে। প্রয়োজনবোধে নির্বচন কমিটি নির্বাচন বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন। গোপন ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। যে কোন পদে দুই জন সদস্য সমান সংখ্যক ভোট পাইলে ঐ পদে পুনর্বার নির্বাচন করিতে হইবে।
ঙ) কোন ব্যক্তি পর পর দুইবারের বেশী ফেডারেশনের একই কর্মকর্তা পদে নির্বাচিত হইতে পারিবেন না। তবে, নির্বাহী পরিষদের শুধু সদস্য থাকার ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হইবে না।
চ) বিদায়ী সভাপতির সভাপতিত্বে কাউন্সিলাররা অধিবেশনে মিলিত হইবেন। এবং সম্মেলনের কাজ পরিচালনার জন্য সর্ব প্রথম একজন সভাপতি স্থির করিবেন।
ছ) কাউন্সিল অধিবেশন অথবা বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে মোট প্রতিনিধিদের শতকরা ৫১ ভাগ উপস্থিত থাকিলে সম্মেলন বৈধ বলিয়া গণ্য হইবে।
জ) নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা ও সদস্যরা দ্বি-বার্ষিক ও বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে যোগদান ও ভাষণ দানের অধিকারী। সভাপতি, মহাসচিব ও কোষাধ্যক্ষের ক্ষেত্রে দ্বি-বার্ষিক ও বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে যোগদান বাধ্যতামূলক।
ঝ) দ্বি-বার্ষিক বা বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে একমাত্র কাউন্সিলাররাই ভোটদান, প্রস্তাব উত্থাপন ও গঠনতন্ত্রের সংশোধনী উত্থাপনের অধিকারী।
ঞ) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধনী সভায় অনুমোদিত ইউনিয়নসমূহের যে কোন সদস্য উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।
ট) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল সভার শেষে সাধারণ সভার সভাপতি নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে নির্বাচন পরিচালানার জন্য দায়িত্ব অর্পন করিবেন এবং কাউন্সিলারদের তালিকা (ভোটার তালিকা) সরবরাহ করিবেন।
ঠ) দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনকালে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর বিদায়ী নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তারা অফিসের দায়িত্ব, কাগজপত্র, তহবিল এবং ফেডারেশনের অন্যান্য সকল সম্পত্তি নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের কাছে বুঝাইয়া দিবেন।
অনুচ্ছেদ-১৬ : কর্মকর্তা ও সদস্যদের অপসারণ
ক) ফেডারেশনের কোন কর্মকর্তা বা সদস্য পদত্যাগ করিতে চাহিলে মহাসচিব বরাবরে পদত্যাগপত্র দাখিল করিতে হইবে। মহাসচিব পদত্যাগ করিতে চাহিলে সভাপতিকে এবং সভাপতি পদত্যাগ করিতে চাহিলে মহাসচিবরেক সম্বোধন করিয়া পদত্যাগ করিবেন। পদত্যাগপত্র নির্বাহী পরিষদে পেশ করিতে হইবে।
খ) নির্বাহী পরিষদে সভাপতি ও মহাসচিব ব্যতীত অর্ধেকের কম সদস্যের পদ শূন্য হইলে নির্বাহী পরিষদ মনোনয়ন দিয়া ঐ শূন্য পদসমূহ পূরণ করিবে। সভাপতি ও মহাসচিব বা নির্বাহী পরিষদের অর্ধেকের বেশী সদস্যের পদ একই সময়ে শূন্য হইলে নির্বাচনের মাধ্যমে ঐ শূন্য পদসমূহ পূরণ করিতে হইবে।
অনুচ্ছেদ-১৮ : অনাস্থা প্রস্তাব
নির্বাহী পরিষদের পঁচাত্তর শতাংশ সদস্য যুক্তিসঙ্গত অভিযোগের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌছিলে নির্বাহী পরিষদের যে কোন কর্মকর্তা এবং ফেডারেশনের ঐকমত্যে পৌছিলে নির্বাহী পরিষদের যে কোন কর্মকর্তা এবং ফেডারেশনের কাউন্সিলারদের শতকরা ষাট শতাংশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌছিলে নির্বাহী পরিষদের বিরুদ্ধে অথবা যে কোন সংখ্যক কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব লিখিতভাবে আনয়ন করিতে পারিবে। অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনকারী সদস্য বা কাউন্সিলারগণ ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সভা ডাকিবার জন্য অনুরোধ করিবেন। যদি সভাপতি ও মহাসচিব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভা না ডাকেন তবে অনাস্থা জ্ঞাপনকারীদের মধ্যে যে কোন একজন সভার নোটিশ প্রদান করিয়া সভা ডাকিতে পারিবেন। এক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকিলে অধিবেশন বৈধ্য বলিয়া গণ্য হইবে না। যদি উক্ত সভায় অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয় তাহা হইলে উহা কার্যকর হইবে। অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হইবার এক মাসের মধ্যে সভাপতি কর্মকর্তা নির্বাচনের জন্য কাউন্সিল অধিবেশন ডাকিবেন এবং কাউন্সিলারদের ভোটে নির্বাচন করিবেন।
অনুচ্ছেদ-১৯ : গঠনতন্ত্র সংশোধন
গঠনতন্ত্রের কোন অনুচ্ছেদ বা উপ-অনুচ্ছেদ সংশোধন করিতে হইলে দ্বি-বার্ষিক বা এতদুদ্দেশ্যে আহূত বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে শতকরা ৭৫ ভাগ সদস্যের সম্মতিক্রমে সংশোধন করা যাইবে। এক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকিলে অধিবেশন বৈধ বলিয়া গণ্য হইবে না। গঠনতন্ত্রের সংশোধনী কার্যকরী করিবার জন্য ট্রেড ইউনিয়নসমূহের রেজিস্ট্রারকে অবগত করাইতে হইবে, যাহা রেজিস্ট্রার কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার পর কার্যকর হইবে।
অনুচ্ছেদ-২০ : ফেডারেশনের বিলুপ্তি
ক) ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নসমূহ ফেডারেশনের বিলুপ্তি সাধনের উদ্দেশ্যে আহূত স্বস্ব ইউনিয়নের সাধারণ সভায় বিলুপ্তির পক্ষে মত প্রকাশ করিলে এবং উহা ফেডারেশনকে কমপক্ষে তিন মাসের নোটিশে জানানোর পর ফেডারেশনের পরবর্তী দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে অথবা বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে বিষয়টি যদি ৯০ শতাংশ ভোটে অনুমোদিত হয়, তবে ফেডারেশনের বিলোপ সাধন করা যাইবে।
খ) বিশেষ বা দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে ফেডারেশনের বিলুপ্তির প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর উক্ত অধিবেশনেই সাংবাদিকদের সার্বিক স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার অনুকূলে ফেডারেশনের যাবতীয় দায় ও পরিসম্পদের নিস্পত্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে।
সমাপ্ত
অনুচ্ছেদ-৫-৩ স্থলে -৫জন
ক(খ)২
অনুচ্ছেদ-৫ : বর্তমান
সহ-সভাপতি ৩ এর স্থলে ৫ জন
সহকারী মহাসচিব ৩ এর স্থলে ৫ জন